বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বৃহস্পতিবার থেকে চালু হলো কাউন্টার ও টিকিটভিত্তিক বাস সার্ভিস। রাজধানীর উত্তরায় এই নতুন পদ্ধতির উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবহণ মালিক ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, “সড়কে এক বাস আরেক বাসকে গরু-মহিষের মতো ধাক্কা দেয়, এতে শৃঙ্খলা থাকে না। তাই বাসচালনা নিয়ন্ত্রিত করতে নতুন এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।”
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে ওঠানামা করতে হবে। একই সঙ্গে, চালক ও হেলপারদের বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে, আবদুল্লাহপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ২৬টি কোম্পানির ২,৬০০টির বেশি বাস এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পুরো শহরকে চারটি প্রধান রুটে ভাগ করে, প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট রঙের বাস চলাচল করবে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বাস-মিনিবাসগুলো কোনো নিয়ম না মেনে চুক্তির ভিত্তিতে যাত্রী পরিবহণ করছিল। এতে অসংগঠিত প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যেখানে যাত্রী তুলতে বাসগুলো যত্রতত্র থামিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।”
তিনি আরও জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, মালিকদের চালকদের ট্রিপভিত্তিক চুক্তির পরিবর্তে পাক্ষিক বা মাসিক চুক্তির আওতায় আনতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার থেকে কাউন্টার পদ্ধতিতে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
এ মাসের মধ্যেই মিরপুর, গাবতলী ও মোহাম্মদপুরের বাসগুলোও টিকিট কাউন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। যাত্রীদের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে বাসে উঠতে হবে, এবং নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাস থামানো যাবে না।
পরিবহণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইফুল আলম বলেন, “যাত্রীদের সঙ্গে ভালো আচরণ নিশ্চিত করতে চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবহণ ব্যবস্থা আরও শৃঙ্খল হয়।”
নতুন এই বাস পদ্ধতির মাধ্যমে নগরীর যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের যাতায়াত হবে সহজ ও আরামদায়ক—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।